টেকনিকাল এসইও এর মূল ভিত্তিসমূহ
টেকনিকাল এসইও ওয়েবসাইটের র্যাঙ্কিং এবং অরগানিক ট্রাফিক বাড়াতে এর টেকনিকাল বিষয় নিয়ে কাজ করে।
এর মাধ্যমে একটি ওয়েবসাইট আধুনিক সার্চ ইঞ্জিনের প্রযুক্তিগত প্রয়োজনীয়তা পূরণ করে অরগানিক ট্রাফিক এবং র্যাঙ্কিং বৃদ্ধি করে।
এর গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলির মধ্যে রয়েছে ক্রলিং, ইনডেক্সিং, রেন্ডারিং, ওয়েবসাইট আর্কিটেকচার ইত্যাদি।
এই অধ্যায়ে আলোচনা করব কেন ২০২৫ সালেও টেকনিক্যাল এসইও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কোনটিকে “টেকনিক্যাল এসইও” হিসেবে বিবেচনা করা হয় (এবং কোনটিকে নয়)।
টেকনিকাল এসইও এর ফান্ডামেন্টাল
সার্চ ইঞ্জিন বটের জন্য ওয়েবসাইট সহজে এক্সেসযোগ্য করতে বিভিন্ন কারিগরি দিক রয়েছে। যেমনঃ লোডিং স্পিড, মোবাইল ফ্রেন্ডলিনেস, ক্রলিং ও ইনডেক্সিং।
আর এগুলো অপটিমাইজ করাই টেকনিকাল এসইও-এর কাজ।
ওয়েবপেজের র্যাঙ্ক বৃদ্ধি এবং প্রচুর পরিমানে অরগানিক ট্রাফিক পেতে অবশ্যই সঠিকভাবে টেকনিকাল এসইও করতে হবে।
অরগানিক ট্রাফিক এবং র্যাঙ্ক বৃদ্ধি করতে অর্থাৎ সাইটটি টেকনিক্যাল SEO এর ক্ষেত্রে সম্পূর্ণরূপে অপ্টিমাইজ করতে হলে কিছু প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে হবে।
এগুলো হলোঃ
- সাইটের পৃষ্ঠাগুলি সুরক্ষিত
- মোবাইল অপ্টিমাইজড
- ডুপ্লিকেট কন্টেন্ট মুক্ত
- দ্রুত লোডিং
- সাইট ম্যাপ তৈরি
- robots.txt অপটিমাইজেশন
- SSL ব্যবহার
- কোর ওয়েব ভাইটালস

তবেই সার্চ ইঞ্জিন সহজে ইনডেক্সিং করতে পারবে এবং ওয়েবসাইট দ্রুত র্যাঙ্ক করার পাশাপাশি অরগানিক ট্রাফিক বৃদ্ধি পাবে।
কারনগুগলের কাছে কন্টেন্ট এক্সেস করা যত সহজ হবে, ওয়েবপেজের র্যাঙ্ক করার সম্ভাবনা তত বেশি হবে।
গুগলের মতে, ৩ সেকেন্ডের মধ্যে পেজ লোড না হলে ৫৩% ব্যবহারকারী ওয়েবসাইট ছেড়ে চলে যায়।
সাইট স্ট্রাকচার এবং নেভিগেশন
সাইট স্ট্রাকচার ও নেভিগেশন হলো টেকনিকাল এসইও এর প্রথম এবং প্রধান ধাপ। কারন, ওয়েবসাইট কতটুকু র্যাঙ্ক করবে বা এতে কি পরিমান ট্রাফিক প্রবেশ করবে তা সাইট স্ট্রাকচারের উপর নির্ভর করে।
প্রথমত, সাইট স্ট্রাকচার খারাপভাবে ডিজাইন করার কারনে ক্রলিং ও ইনডেক্সিং জনিতন সমস্যাগুলো হয়ে থাকে।
একারনে সাইট স্ট্রাকচার এমন ভাবে করতে হবে যাতে গুগলের বট বা ক্রলার সহজেই সেই সাইট ইনডেক্স করতে পারে।
দ্বিতীয়ত, সাইট স্ট্রাকচার এমন একটি প্রক্রিয়া যেটি URL থেকে শুরু করে সাইটম্যাপ এবং নির্দিষ্ট পেজ থেকে সার্চ ইঞ্জিন ব্লক করার জন্য robots.txt ব্যবহার করা পর্যন্ত সাইট অপ্টিমাইজ করার সকল বিষয়ের উপর প্রভাব ফেলে।
তৃতীয়ত, সাইটের স্ট্রাকচার সঠিক এবং সুন্দর হওয়ার কারনে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা বৃদ্ধি পায় যা র্যাঙ্ক করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

ক্রলিং, রেন্ডারিং এবং ইনডেক্সিং
ক্রলিং, রেন্ডারিং এবং ইনডেক্সিং টেকনিকাল এসইও এর গুরুত্বপূর্ণ ধাপ যার মাধ্যমে গুগল বা অন্যান্য সার্চ ইঞ্জিন বুঝে যে ওয়েবসাইটটিতে কোথায় কোন কোন বিষয় রয়েছে।
গুগল তার নিজস্ব বট বা ক্রলার পাঠায় যেটি ওয়েবপেজের বিষয়বস্তু ইন্ডেক্স করে যার মাধ্যমে গুগল সহজেই ওয়েবসাইট সম্পর্কে ধারণা পায়। এবং রেন্ডারিং সঠিকভাবে ওয়েবপেজটি ভিজুয়ালাইজ করতে সাহায্য করে।

এই প্রক্রিয়া গুলো সঠিকভাবে করা না হলে ওয়েবসাইটের র্যাঙ্ক এবং ট্রাফিক কমে যাবে এবং ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা হ্রাস পাবে।
থিন এবং ডুবলিকেট কন্টেন্ট
ওয়েবসাইটে ভিন্ন ইউআরএল (URL) -এ একই বিষয়বস্তু সম্পর্কিত কন্টেন্ট থাকলে অর্থাৎ তাদের মূল বিষয় যদি এক থাকে সেটিকে ডুপ্লিকেট কন্টেন্ট হিসেবে ধরা হয়।
অনেক সময় CMS (Content Management System) একই পেজের বিভিন্ন ভার্সন বিভিন্ন URL-এ তৈরি করে ফেলে। যার ফলে ডুপ্লিকেট কন্টেন্টের সমস্যা দেখা যায় এবং ওয়েবসাইটের র্যাঙ্ক কমে যায়।
যদি একই বিষয়বস্তু সম্বলিত কন্টেন্ট থাকা জরুরী হয় তাহলে কম গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবপেজের ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবপেজের ক্যানোনিকাল ইউআরএল ব্যবহার করতে হবে।
থিন কন্টেন্ট বলতে বুঝানো হয়েছে ওয়েবসাইটে খুব কম বা অপ্রয়োজনীয় তথ্য থাকা, যা ব্যবহারকারীর জন্য তেমন কাজের নয় যেটি ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা নষ্ট করে ফলে র্যাঙ্ক কমে যায়।

থিন এবং ডুবলিকেট কন্টেন্ট খুঁজে বের করে এর সমস্যাগুল সমাধান করতে হবে যাতে ওয়েবসাইটের র্যাঙ্ক এবং ট্রাফিক বৃদ্ধি পায়।
পেইজ স্পিড
পেজের লোডিং স্পিড বাড়ানো টেকনিকাল এসইও এর গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। যার মাধ্যমে ব্যবহারকারির অভিজ্ঞতা, র্যাঙ্ক ও ট্রাফিক সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
এক্ষেত্রেঃ
- পেজের আকার কমাতে হবে।
- কন্টেন্টের মিডিয়ার সাইজ কমাতে হবে।
- অতিরিক্ত বিষয় যেগুলো গুরুত্বপূর্ণ না সেসব বিষয় বাদ দিতে হবে।
- তৃতীয় পক্ষের স্ক্রিপ্ট যেগুলো ওয়েবপেজ ভারী করে ফেলতেছে সেগুলো বাদ দিতে হবে।

এইসব সমস্যা খুঁজে বের করে প্রয়োজন অনুযায়ী সমাধান করতে হবে যাতে ব্যবহারকারির অভিজ্ঞতা বৃদ্ধির পাশাপাশি র্যাঙ্ক এবং অরগানিক ট্রাফিক বৃদ্ধি পায়।
এক্সট্রা টেকনিকাল এসইও টিপস
এর মধ্যে রয়েছে রিডাইরেক্ট, স্ট্রাকচার্ড ডেটা, Hreflang এবং আরও অন্যান্য বিষয়।
এক্ষেত্রে ওয়েবসাইট র্যাঙ্কিং এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু টেকনিকাল সমস্যার সমাধান করা জরুরী যার মধ্যে রয়েছেঃ
- hreflang বাস্তবায়নঃ বিভিন্ন ভাষা এবং দেশের ব্যবহারকারিদের জন্য সঠিক ভাষার সংস্করণ দেখাতে hreflang ট্যাগ ব্যবহার করা হয় । এর মাধ্যমে গুগলকে বোঝানো যায় যে কোন পেজটি কোন ভাষাভাষীর ব্যবহারকারিদের জন্য তৈরি করা হয়েছে।
- ডেড লিঙ্ক পরীক্ষাঃ ডেড লিঙ্ক পরীক্ষা করা হলো ওয়েবসাইটের যেসব লিঙ্ক কাজ না করে সেসব লিঙ্কগুলি খুঁজে বের করা। এই লিঙ্কগুলি ব্যবহারকারীদের এবং সার্চ ইঞ্জিন ক্রলারদের জন্য ক্ষতিকর, তাই এগুলো নিয়মিত পরীক্ষা করে সমাধান করা উচিত।
- স্ট্রাকচার্ড ডেটা সেট আপঃ ওয়েবসাইটের তথ্যগুলোকে এমনভাবে সাজাতে হবে যাতে সার্চ ইঞ্জিন সহজে বুঝতে পারে এবং ওয়েবসাইট সম্পর্কে আরও বেশি তথ্য সার্চ ইঞ্জিনে দেখাতে পারে।
- XML সাইটম্যাপ যাচাইঃ এটি ওয়েবসাইটের একটি তালিকা, যা সার্চ ইঞ্জিন ক্রলারদের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ পৃষ্ঠা খুঁজে পেতে সাহায্য করে। এটি যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে সাইটম্যাপটি সঠিকভাবে তৈরি হয়েছে এবং এতে কোনো ভুল নেই।
- Noindex ট্যাগ ব্যবহারঃ Noindex ট্যাগ হল একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ যা কোনো নির্দিষ্ট ওয়েবপেজকে সার্চ ইঞ্জিনের ইন্ডেক্স থেকে বাদ রাখতে ব্যবহৃত হয়।
- মোবাইল ব্যবহারযোগ্যতাঃ গুগলের তথ্য অনুসারে যেহেতু ৬০% এর বেশি ট্রাফিক মোবাইল থেকে আসে তাই ওয়েবসাইটটি যাতে মোবাইল ব্যবহারকারির জন্য উপযুক্ত হয় সেক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
টেকনিকাল এসইও কেস স্টাডিস
টেকনিকাল এসইও কেস স্টাডিস Coming Soon…
এসইও সম্পর্কিত আরও বিস্তারিত জানুনঃ
১) Learn SEO Beginner Guideline: ধারাবাহিক পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন
২) এসইও (SEO) শেখার জন্য কি কি জানা প্রয়োজন?
৩) এসইও কত প্রকার ও কি কি? সংক্ষেপে জানুন
৪)ইমেজ SEO কী এবং কিভাবে করা হয়?
৫) অন-পেজ এসইও করার কৌশল পর্ব-১
৬) অন-পেজ এসইও করার কৌশল পর্ব-২
৭) অন-পেজ এসইও করার কৌশল পর্ব-৩
৮) এডভান্সড অন-পেজ এসইও পর্ব-৪
৯) কীওয়ার্ড রিসার্চ ও কম্পিটিটিভ এনালাইসিস এর পরিপূর্ণ গাইড